বুধবার, ১০ Jun ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ন
ক্রিকেটে বিশ্বে বিস্ময়ের শুরুটা হয়েছিল আজ থেকে ৩৪ বছর আগে। দিনটা ছিল ১৯৮৯ সালের ১৫ নভেম্বর। করাচিতে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল ভারত। ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন সেই দলে তখন ছিলেন ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিস আব্দুল কাদিরদের মতো তারকারা। তাদের নামে বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানরাও তখন দুই ঢোঁক বেশি পানি পান করতেন।
এমন বোলারদের সামনেই ক্রিকেট জগতে সেদিন পা রেখেছিলেন শচিন রমেশ টেন্ডুলকার। তারপর বাকিটা ইতিহাস। ক্রিকেটে সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটসম্যান হয়ে ইতিহাসের পাতায় নিজের নামটা খোদাই করে নিয়েছেন। সেই শচিনের আজ ৫০তম জন্মদিন। ১৯৭৩ সালের এই দিনে (২৪ এপ্রিল) ভারতের মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ভারতীয় এই ক্রিকেট কিংবদন্তি। শতকের শতক হাঁকানো এই ব্যাটসম্যান আজ পূরণ করলেন জীবনের অর্ধশতক।
ক্রিকেট ইতিহাসে গ্রেট গ্রেট ব্যাটসম্যানের অভাব নেই। যুগে যুগে ভিন্ন ভিন্ন তারকা ব্যাটসম্যানদের দেখেছে ক্রিকেট-বিশ্ব। কিন্তু শচিনের মতো ব্যাটসম্যানের দেখা মিলেছে একবারই। ব্যাট-প্যাড তুলে রাখার ঘোষণা দেওয়ার আগে শচিন নিজেকে যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন অন্য ব্যাটসম্যানদের চোখে তা স্রেফ স্বপ্ন!
অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত শচিন টেস্ট খেলেছেন ২০০টি। যাতে ৫৩.৭৮ গড়ে রান করেছেন ১৫ হাজার ৯২১। ৫১টি শতক ও ৬৮টি অর্ধশতকে এই রান করেন লিটল মাস্টার। সর্বোচ্চ ২৪৮ রান। হাত ঘুরিয়ে উইকেটও নিয়েছেন ৪৬টি।
ওয়ানডে খেলেছেন ৪৬৩টি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যা সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড। ৪৪.৮৩ গড়ে রান করেছেন ১৮ হাজার ৪২৬। ৪৯টি শতক ও ৯৬টি শর্ধশতকে এই রান করেছেন শচিন। ওয়ানডেতে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি (২০০*) এসেছে তার ব্যাট থেকেই। ওয়ানডেতে বল হাতেও ছিলেন বেশ উজ্জ্বল। ক্যারিয়ারে তার ওয়ানডে উইকেটের সংখ্যা ১৫৬টি। টেস্ট ও ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান ও সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিতে সবার অনেক ওপরে টেন্ডুলকার।
২০১২ সালের এশিয়া কাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি করার বিরল কীর্তি গড়েন শচিন। ক্রিকেট ইতিহাসে এই রেকর্ড কখনো ভাঙবে কিনা সন্দেহ!
শচিন তার ক্যারিয়ারে ৬টি বিশ্বকাপ খেলেছেন। তার সর্বশেষ বিশ্বকাপ অর্থাৎ ২০১১ সালে দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ জিতে ক্যারিয়ারের প্রাপ্তির খাতাটার ষোলোকলায় পূর্ণ করেন ভারতের ব্যাটিং কিংবদন্তি। ২০১২ সালে ওয়ানডে ও ২০১৩ সালে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানান শচিন।